WordPress

ডেমো ইমপোর্ট করলেন, মিলল না — WordPress থিম কাস্টমাইজেশন শুরু করার আগে

থিম কিনেছেন, ডেমো ইমপোর্ট করেছেন, কিন্তু স্ক্রিনশটের সঙ্গে মিলছে না আর লোগো বদলানোর অপশনও খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণটা দক্ষতা নয় — WordPress-এর স্তরগুলোর ম্যাপ না জানা। সেই ম্যাপটাই এখানে।

স্ট্যাক অ্যালিক্স টিমস্ট্যাক অ্যালিক্স টিম৩০ সেপ, ২০২৬৮ মিনিট পড়া
শেয়ার করুন

৫৯ ডলার দিয়ে ThemeForest থেকে একটা থিম কিনলেন। ডেমো ইমপোর্ট চালালেন। স্ক্রিনে যা এল, সেটা প্রিভিউর সঙ্গে দূরসম্পর্কের আত্মীয়ও নয় — ছবিগুলো ধূসর প্লেসহোল্ডার, হোমপেজের অর্ধেক সেকশন উধাও, আর লোগো বদলানোর অপশনটা কোথায় লুকিয়ে আছে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। তিন দিন কেটে গেছে ইউটিউব দেখতে দেখতে, ক্লায়েন্টকে দেখানোর মতো কিছুই দাঁড়ায়নি, অথচ কাজটা ছিল সাত দিনের।

এটা আপনার দক্ষতার সমস্যা নয়। WordPress-এ আজ কাস্টমাইজেশনের অন্তত চারটা আলাদা স্তর একসঙ্গে চলছে — এবং কোন স্তরটা কোন জিনিসের মালিক, সেটা কেউ পরিষ্কার করে বলে না। আপনি হয়তো এক ধরনের থিমের টিউটোরিয়াল দেখছেন, আর হাতে আছে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের থিম। শুরুর আগে এই ম্যাপটা বুঝে নিলে বাকি কাজটা আশ্চর্যরকম শান্ত হয়ে যায়।

দশ সেকেন্ডে বের করুন আপনার থিম কোন জাতের

ড্যাশবোর্ডে Appearance মেনুটা খুলুন। সেখানে যদি “Editor” নামের একটা অপশন থাকে, তাহলে আপনার থিম ব্লক থিম — Twenty Twenty-Five, Ollie, বা Kadence-এর ব্লক ভার্সন এই দলে। আর যদি Customize, Widgets, Menus আলাদা আলাদা করে থাকে কিন্তু Editor না থাকে, তাহলে সেটা ক্লাসিক থিম — Astra, GeneratePress, Avada, আর ThemeForest-এর বেশিরভাগ বিজনেস থিম এখনও এই ঘরানার।

এই একটামাত্র পার্থক্য ঠিক করে দেবে আপনি পরের সাত দিন কোন টুল ছোঁবেন। ব্লক থিমে রঙ বদলাবেন Styles প্যানেল থেকে; ক্লাসিক থিমে থিম অপশন বা Customizer থেকে। ব্লক থিমে হেডার বদলাবেন টেমপ্লেট পার্টে; ক্লাসিকে হেডার বিল্ডারে।

নতুনদের সবচেয়ে বড় সময়ক্ষয় হলো ভুল জাতের টিউটোরিয়াল অনুসরণ করা। ব্লক থিমের ভিডিও দেখে ক্লাসিক থিমে theme.json খুঁজবেন — পাবেন না, আর মনে হবে আপনি কিছু বুঝছেন না। উল্টোটাও সমান সত্যি।

ডেমো কেন হুবহু মেলে না

ডেমো ইমপোর্টার আসলে একগাদা কনটেন্ট, উইজেট সেটিং আর ছবির কপি টেনে আনে। কিন্তু ডেমোর স্টক ছবিগুলোর লাইসেন্স সাধারণত শুধু ডেমো দেখানোর জন্য — তাই সেগুলো আপনার সাইটে ধূসর প্লেসহোল্ডার হয়ে আসে। এটা বাগ নয়, লাইসেন্সের নিয়ম।

দ্বিতীয় কারণটা আরও সাধারণ: শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে PHP-র max_execution_time ৩০ সেকেন্ড আর memory_limit ১২৮MB থাকলে ইমপোর্ট মাঝপথে থেমে যায়। অর্ধেক পেজ ঢোকে, অর্ধেক ঢোকে না, কোনো এরর মেসেজও দেখায় না। ফল — এক ভাঙাচোরা সাইট, আর আপনার আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা।

সমাধান সহজ। হোস্টিং সাপোর্টে একটা টিকিট দিয়ে বলুন memory_limit ২৫৬MB আর max_execution_time ৩০০ সেকেন্ড করে দিতে; দেশি প্রায় সব প্রোভাইডার এটা মিনিটে করে দেয়। তারপর ডেমো আবার ইমপোর্ট করুন। আর একটা প্রত্যাশা এখনই ছেড়ে দিন — ডেমো কখনো ১০০% মিলবে না। ৮০% মিললেই যথেষ্ট; বাকিটাই তো আপনার কাজ, নইলে ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা দিচ্ছেন কেন।

চাবি কার হাতে — একটা ম্যাপ

কাজ শুরুর আগে এই ম্যাপটা একবার পড়ে নিন। কোথায় কী বদলায়, সেটা জানলেই অর্ধেক হতাশা উবে যাবে।

  • লোগো, সাইট টাইটেল, ফেভিকন — ক্লাসিকে Customizer → Site Identity; ব্লকে Site Editor-এ হেডার টেমপ্লেট পার্টের ভেতরের Site Logo ব্লক।
  • মেনু — ক্লাসিকে Appearance → Menus; ব্লকে Navigation ব্লক, অর্থাৎ মেনু নিজেই এখন একটা ব্লক।
  • রঙ ও টাইপোগ্রাফি — ব্লকে Styles প্যানেল (theme.json থেকে আসা ডিফল্ট); ক্লাসিকে থিমের নিজস্ব অপশন প্যানেল বা Customizer।
  • হেডার ও ফুটার লেআউট — ব্লকে Site Editor → Patterns → Template Parts; ক্লাসিকে থিমের হেডার বিল্ডার, নয়তো Elementor Pro-র Theme Builder।
  • একটা নির্দিষ্ট পেজের লেআউট — ব্লক এডিটর অথবা পেজ বিল্ডার।
  • আর বাকি সব খুচরো টিউনিং — CSS, এবং সেটা সবার শেষে।

কাজের ক্রম: বড় থেকে ছোট

নতুনরা প্রায় সবসময় উল্টো দিক থেকে শুরু করেন। একটা পেজের একটা বাটনের রঙ ঠিক করতে গিয়ে CSS লিখে ফেলেন, তারপর সেই CSS দশটা পেজে কপি করেন। ঠিক ক্রমটা ঠিক উল্টো — আগে গ্লোবাল (পুরো সাইটে যা এক), তারপর টেমপ্লেট (একই ধরনের সব পেজে যা এক), তারপর ব্লক বা সেকশন (একটা পেজের ভেতরে), আর একদম শেষে ওভাররাইড। উপরের ধাপে যা করা সম্ভব, নিচের ধাপে কখনো করবেন না।

উদাহরণ দিই। ব্র্যান্ড কালার ধরুন #0f766e। গ্লোবাল স্টাইলে একবার সেট করলে বাটন, লিংক, হেডিং — সব জায়গায় নিজে থেকেই চলে যাবে। ছয় মাস পরে ক্লায়েন্ট রঙ বদলাতে চাইলে এক জায়গায় বদলালেই পুরো সাইট বদলে যাবে। আর যদি ত্রিশটা পেজে আলাদা করে CSS-এ রঙটা লিখে রাখেন, তাহলে ছয় মাস পরে ত্রিশটা জায়গায় খুঁজতে হবে — আর একটা মিস করলেই ক্লায়েন্ট সেটাই সবার আগে দেখবেন।

ব্লক থিমে Styles আর theme.json

ব্লক থিমে Appearance → Editor → Styles (তুলির আইকন) খুললে রঙ, টাইপোগ্রাফি আর লেআউটের গ্লোবাল সেটিং পাবেন। এখানে যা বদলাবেন সেটা থিম ফোল্ডারে নয়, ডেটাবেসে জমা হয় — অর্থাৎ থিম আপডেট হলেও আপনার কাজ টিকে থাকে। নতুন হিসেবে এটুকুই আপনার দরকার।

theme.json হলো থিমের নিজের ডিফল্ট সেটিংসের ফাইল — প্যালেট, ফন্ট সাইজের স্কেল, কনটেন্টের প্রস্থ, স্পেসিং। এতে হাত দিতে হয় তখনই, যখন আপনি নিজের থিম বানাচ্ছেন, কিংবা ক্লায়েন্টের জন্য একটা ডিজাইন সিস্টেম লক করে দিতে চান যাতে উনি ইচ্ছেমতো বারোটা রঙ যোগ করতে না পারেন। শুরুতে ওই ফাইলটা না খুললেও চলবে।

ক্লাসিক থিমে চাইল্ড থিম — কখন লাগবে, কখন না

একটা ভুল ধারণা আছে যে ক্লাসিক থিম মানেই প্রথমেই চাইল্ড থিম বানাতে হবে। বাস্তবে, আপনি যদি শুধু রঙ, ফন্ট, লোগো আর কিছু CSS বদলান, তাহলে দরকার নেই — থিম অপশন আর Additional CSS-ই যথেষ্ট, আর সেগুলো ডেটাবেসে থাকায় আপডেটে হারায় না। চাইল্ড থিম দরকার তখন, যখন টেমপ্লেট ফাইল বদলাতে হবে (যেমন single.php-তে লেখকের বক্স যোগ করা) কিংবা functions.php-তে হুক লিখতে হবে। দরকার ছাড়া চাইল্ড থিম বানানো মানে শুধু একটা বাড়তি জিনিস মেইনটেইন করা।

স্টাইল করার আগে স্কোপটা ঠিক করুন

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটা টাকার প্রশ্ন। ৫ পেজের একটা SME সাইটের বাজেট সাধারণত ৳১৫,০০০ থেকে ৳৩৫,০০০-এর ঘরে। সেই বাজেটে হেডারের হোভার অ্যানিমেশন নিখুঁত করতে দুই দিন দিলে আপনার ঘণ্টাপ্রতি আয় নেমে আসে চা-নাশতার পর্যায়ে। কাজ শুরুর আগে ক্লায়েন্টের সঙ্গে লিখিতভাবে ঠিক করুন — কয়টা পেজ, কয়টা রিভিশন, লোগো আছে না বানাতে হবে, কনটেন্ট কে দেবে।

আর মনে রাখুন, একটা SME সাইটে ৯০% কাজ হয়ে যায় চারটা জিনিসে — পরিষ্কার লোগো, দুটো ব্র্যান্ড কালার, একটা ভালো ফন্ট পেয়ার, আর প্রতিটা পেজে একটা স্পষ্ট CTA। বাকি ১০%-এ ৬০% সময় ঢালার লোভটা সামলাতে শিখলে আপনি লাভজনক ফ্রিল্যান্সার হবেন।

প্রথম সপ্তাহের বাস্তব প্ল্যান

  • দিন ১ — LocalWP বা হোস্টিংয়ের স্টেজিংয়ে সাইট বসান, PHP লিমিট বাড়ান, থিম ইনস্টল করে ডেমো ইমপোর্ট করুন।
  • দিন ২ — যা লাগবে না মুছে ফেলুন: বাড়তি পেজ, ডামি প্রোডাক্ট, অপ্রয়োজনীয় বান্ডেল প্লাগিন। সাইটটা প্রথম দিন থেকেই হালকা রাখুন।
  • দিন ৩ — গ্লোবাল স্টাইল: রঙ, টাইপোগ্রাফি, স্পেসিং, লোগো, ফেভিকন। সব এক জায়গা থেকে।
  • দিন ৪ — হেডার, ফুটার আর টেমপ্লেট (ব্লগ আর্কাইভ, সিঙ্গেল পোস্ট, ৪০৪)।
  • দিন ৫ — আসল কনটেন্ট বসান: হোম, সার্ভিস, অ্যাবাউট, কন্টাক্ট। ডামি টেক্সট একটাও রাখবেন না।
  • দিন ৬ — মোবাইলে প্রতিটা পেজ নিজে চোখে দেখুন, ছবি কমপ্রেস করুন, PageSpeed-এর মোবাইল স্কোর মাপুন।
  • দিন ৭ — ব্যাকআপ, সিকিউরিটি, SSL, তারপর লাইভ।

শুরু করার আগের চেকলিস্ট

  • থিমটা ক্লাসিক না ব্লক — নিশ্চিত হয়েছেন?
  • স্টেজিং বা লোকাল কপি তৈরি, লাইভে সরাসরি কাজ করছেন না?
  • PHP memory_limit অন্তত ২৫৬MB, max_execution_time অন্তত ৩০০ সেকেন্ড?
  • রঙ আর ফন্ট লিখিতভাবে ঠিক করা — দুটোর বেশি ব্র্যান্ড কালার নয়, দুটোর বেশি ফন্ট নয়?
  • কোন জিনিস কোথা থেকে বদলাবেন, তার এক পাতার নোট আছে?
  • ব্যাকআপ প্লাগিন বসানো, এবং অন্তত একবার রিস্টোর টেস্ট করা?

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ফ্রি থিম দিয়ে ক্লায়েন্টের কাজ করা যায়? যায়, আর প্রায়ই সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ। GeneratePress, Kadence বা Twenty Twenty-Five দিয়ে দ্রুত, হালকা আর আপডেটেড সাইট বানানো যায়। প্রিমিয়াম থিমের আসল খরচ থিমের দামে নয় — দীর্ঘমেয়াদি মেইনটেন্যান্সে।

থিম বদলালে কি কনটেন্ট হারিয়ে যাবে? পোস্ট, পেজ আর মিডিয়া থাকবে, কারণ সেগুলো থিমের বাইরে ডেটাবেসে থাকে। কিন্তু থিমের নিজস্ব শর্টকোড, উইজেট আর পেজ বিল্ডারের লেআউট ভেঙে যাবে। তাই থিম বাছাইটা একটা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত — হালকাভাবে নেবেন না।

কতটুকু কাস্টমাইজেশন যথেষ্ট? ব্র্যান্ড আর কনভার্শনের জন্য যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকু। ভিজিটর আপনার হোভার ইফেক্ট মনে রাখবেন না; উনি মনে রাখবেন দাম, ছবি, আর অর্ডার বাটনটা কত সহজে খুঁজে পেলেন।

প্রিমিয়াম থিমের লাইসেন্স শেষ হলে কী হয়? সাইট চলতেই থাকবে, কিন্তু আপডেট আর সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাবে — অর্থাৎ ভবিষ্যতের সিকিউরিটি ফিক্স আর পাবেন না। ক্লায়েন্টকে শুরুতেই এটা পরিষ্কার বলুন, এবং লাইসেন্সটা ক্লায়েন্টের নিজের অ্যাকাউন্টেই কিনুন, আপনার নয়।

থিম বাছাই করতে বা প্রথম কাস্টমাইজেশনগুলো গুছিয়ে নিতে সাহায্য দরকার? Stack Alix-এর টেমপ্লেট স্টোরে বাংলাদেশি ব্যবসার জন্য তৈরি রেডি কিট আছে — পরিষ্কার স্ট্রাকচার, হালকা কোড, আর ডকুমেন্টেশন। নিজে দাঁড় করাতে চাইলে সেটাও ভালো; আটকে গেলে আমাদের বলুন।

ট্যাগ:WordPress#wordpress#theme customization#block themes#site editor#theme.json#wordpress beginners#demo import
স্ট্যাক অ্যালিক্স টিম
লেখক সম্পর্কে
স্ট্যাক অ্যালিক্স টিম
Stack Alix কন্ট্রিবিউটর

ডিজিটাল প্রোডাক্ট, ডেভেলপমেন্ট ও অনলাইন ব্যবসা নিয়ে নিয়মিত লেখেন।

নতুন আর্টিকেল ইনবক্সে পেতে চান?

সপ্তাহের সেরা টিপস ও গাইড সরাসরি আপনার ইমেইলে।